১ মার্চ বুধবার রাতের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২ মার্চ শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। পরদিন ৩ মার্চ শুক্রবার বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ‘ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের’ দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন ও টেলিভিশন চ্যানেলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যায়িত করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জঙ্গি আখ্যায়িত করে ওইসব সংবাদ প্রসঙ্গে শাহ জাদা ফেসবুকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ৩ মার্চ সকালে পোস্ট করা ও ভিডিওতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিও আকর্ষণ করেছেন।

তিনি পোস্ট সঙ্গে লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, কোথায় আপনি? আজ যে যেভাবে পারছে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। কোনো কিছু না জেনে আমাকে নিকৃষ্টতম নামে আখ্যায়িত করে দিলো। আমার পরিবার আমি সবাই আজ রিস্কের মধ্যে। কেন? কেন আমাকে এভাবে ফাঁসানো হলো?’

ওই ভিডিওতে শাহ জাদা বলেন, শিক্ষার্থী তপুর ওপর হামলা হয়েছে, এজন্য আমি সবাইকে থাকতে বলেছিলাম। একটা ছেলে শুধু ‘ইনশাল্লাহ’ বললে সে হিজবুত তাহরীর হয়ে যায়? সে জঙ্গি হয়ে যায়? একজন মুসলমান হিসেবে আমি এ শব্দটা ব্যবহার করতে পারি না?

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যারা আমার নাম দিয়ে এসব লিখে সংবাদ প্রকাশ করেছেন, একবারও কি চিন্তা করেছেন, একটা ছেলের ওপর কী হতে পারে? তার ভবিষ্যতটা কী হতে পারে? তার পরিবারের কী হতে পারে?

নিজে কখনো কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করেন শাহ জাদা। ভিডিওতে কথা বলার সময় বারবার কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় তাকে।

এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিও আকর্ষণ করে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বিষয়টি দেখবেন। এভাবে কারো ভবিষ্যত নষ্ট করে দেওয়া যায় না।

ভিডিওটির নিচে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। সবাই এর প্রতিক্রিয়ায় নিন্দা জানিয়েছেন, বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়কে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। অনেকে প্রশ্ন রেখেছেন, এভাবে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি’ বলে জীবন ধ্বংস করে দেওয়া হলে এসবের দায় কে নেবে?

১ মার্চ বুধবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেটে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী  শাহরিয়ার হাসনাত তপুর বাইক রাখাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তারক্ষীদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে নিরাপত্তারক্ষীরা তপুকে মারধর করে। খবর পেয়ে তপুর বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে অ্যাপোলা হাসপাতাল ভর্তি করে। খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়। এ নিয়ে রাতেই বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। পরের দিন ২ মার্চ বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে আবাসিক এলাকার ভেতর বসুন্ধরা গ্রুপের কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুর করেন।

এ ঘটনা নিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন পত্রিকা কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজ২৪.কম ও টেলিভিশন নিউজ ২৪-এ নর্থ সাউথের শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যায়িত করে সংবাদ পরিবেশন করা হয়।