আজ ১৫ই ডিসেম্বর ২০১৭, ১লা পৌষ ১৪২৪, ২৮শে রবিউল-আউয়াল ১৪৩৯

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক

মার্চ ২৬, ২০১৭
২৫শে মার্চের সেই কালো রাতে পাক হায়েনাদের অতর্কিত বীভৎস আক্রমণে যখন পুরো দেশ দিশেহারা !
আওয়ামীলীগের নেতারা যখন আত্মগোপনে ব্যস্ত !
স্বাধীনতাকামী বিপ্লবীদের মনোবল যখন শুন্যের কোঠায় !
বাঙালী সেনারা যখন বিদ্রোহের জন্যে নেতৃত্বহীনতায় ভুগছিল !
ঠিক তখনই একজন মেজর দাম্ভিক স্বরে উচ্চারণ করেছিলেন সেই ঐতিহাসিক উক্তি !
“WE REVOLT !”
সাথে সাথে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট !
লেঃ কর্নেল জানজুয়াসহ প্রচুর পাকসেনা হত্যা ! অস্ত্র দখল !
কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে সেই চির আকাঙ্খিত ঘোষণা !
“I, Major Ziaur Rahman, Provisional Persident and Commander-in-Chief of Liberation Army do hereby proclaim independence of Bangladesh and appeal for joining our liberation struggle, Bangladesh is independent. We have waged war for liberation war with whatever we have. We will have to fight and liberate the country from occupation of Pakistan Army. Inshallah, victory is ours.”
দেশ পলাতক কিছু শরনার্থীর দল অথচ কিনা আজ অস্বীকার করতে চায় মেজর জিয়ার সেই স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষনা । কিন্তু অন্ধ হলেইতো প্রলয় বন্ধ হয়ে যায়না , খাটের তলে লুকিয়ে থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখলেইতো ঘোষনাটি মিথ্যা হয়ে যায় না , যাবেনা । আসুন দেখি সে সময় নিয়ে সম সাময়িকদের কিছু কথন ।
★ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ডেভিড ফ্রষ্টকে দেয়া সাক্ষাতকারঃ
১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারী খ্যাতিমান ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রষ্টকে নিউনিয়র্কের এন ডব্লিউ টিভির জন্য এক সাক্ষাতকার দেন। ঐ সাক্ষাতকারের সাথে মার্চের ভাষন সম্পর্কে তার মধ্যকার আলাপচারিতা তুলে ধরা হলো:
ফ্রস্টঃ আপনার কি ইচ্ছা ছিলো যে,তখন ৭ মার্চ আপনি স্বাধীন বাংলাদেশের ঘোষনা দেবেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবঃ আমি জানতাম এর পরিণতি কি হবে এবং সভায় আমি ঘোষনা করি যে এবারের সংগ্রাম মুক্তির এবং শৃঙ্খল মোচন এবং স্বাধীনতার।
ফ্রষ্টঃ আপনি যদি বলতেন আজ আমি স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ঘোষনা করছি,তো কি ঘটতে পারতো।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবঃ বিশেষ করে ঐ দিনটিতে এটা করতে চাইনি। কেননা বিশ্বকে তাদের এই বলার সুযোগ দিতে চায়নি যে মুজিবর রহমান স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছেন এবং আঘাত হানা ছাড়া আমাদের আর কোন বিকল্প ছিলো না। আমি চাইছিলাম তারাই আগে আঘাত হানুক এবং জনগন তা প্রতিরোধ করার জন্য প্রস্তুত ছিলো।
★শেখ মুজিবর রহমানের স্বাক্ষরিত স্বীকৃতি :
“মুজিব গ্রেফতার ।
সর্বত্র সঙ্ঘশক্তি প্রায় তছনছ ।
এই শূন্য অবস্থাকে ভরাট করে তোলার জন্যে মেজর জিয়া চট্টগ্রাম রেডিও থেকে অস্থায়ী সরকার ঘোষণা করলেন ।
তার প্রধান তিনি নিজেই ।”
– বাংলা নামে দেশ ।
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফখরুদ্দিন ,আনন্দ পাবলিশার্স,কলকাতা,ভারত ।
উল্লেখ থাকে যে এটি এমন একটি বই যার সত্যতার স্বীকৃতি দিয়েছেন স্বয়ং শেখ মুজিবর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধী । ২৫ মার্চ ১৯৭২ তারিখে নিজ স্বাক্ষরিত এক বাণীতে শেখ মুজিবর রহমান বলেন, “বাংলা নামের দেশ গ্রন্থে সেই স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, সংগ্রামের আগের ও পরের ইতিহাস, ধারাবাহিক রচনা, আলোকচিত্রমালায় চমৎকারভাবে সাজানো হয়েছে। বইটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ন দলিল।”
বইটিতে আরো আছে ,
“ওসমানী জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণাকে খাটো করার জন্য যুদ্ধকালে জিয়াকে সাসপেন্ডও করেছিলেন। ” ★ প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের ভাষ্যঃ
১০ এপ্রিল মুজিবনগরে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র নির্মিত হবার পর দিন ১১ এপ্রিল প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে এ সম্পর্কে বাংলাদেশের জনগণের উদ্দেশে যে ভাষণ দেন, তা আমাদের দেখা দরকার।
তাজউদ্দিন আহমদের সে ভাষ্য,
“লড়াইরত আমাদের বাহিনীর চমৎকার সাফল্য এবং প্রতিদিন
তাদের শক্তির সঙ্গে জনবলের বৃদ্ধি এবং দখলীকৃত অস্ত্র গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে, যা মেজর
জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে প্রথম ঘোষিত হয়, সক্ষম করেছে পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল বেস প্রতিষ্ঠা করতে, যেখান
থেকে মুক্তাঞ্চলের প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ মেজর জিয়ার জেড ফোর্সের যুদ্ধকে তুলনা করেছেন স্ট্যালিনগ্রাডের যুদ্ধের সঙ্গে।
“চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলের সমর পরিচালনার ভার পড়েছে মেজর জিয়াউর রহমানের উপর। নৌ, স্থল ও বিমান বাহিনীর আক্রমণের মুখে চট্টগ্রামে যে প্রতিরোধ ব্যূহ গড়ে উঠেছে তা স্বাধীনতার ইতিহাসে স্ট্যালিনগ্রাডের পাশে স্থান পাবে।”
স্বাধীনতার ঘোষণা প্রসঙ্গে তাজউদ্দিন আহমদ বলেন :
“এই প্রাথমিক বিজয়ের সাথে সাথে মেজর জিয়াউর রহমান একটি পরিচালনা কেন্দ্র গড়ে তোলেন এবং সেখান থেকে আপনারা শুনতে পান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম কণ্ঠস্বর”
★ প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীনের রাজনৈতিক সচিব মইদুল হাসান তরফদার তার গ্রন্থ থেকেঃ
“মেজর জিয়ার ঘোষণা এবং বিদ্রোহী ইউনিটগুলির মধ্যে বেতার যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা হবার ফলে এই সব স্থানীয় ও খন্ড বিদ্রোহ দ্রুত সংহত হতে শুরু করে। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধে জড়িত হবার বিষয়টি এদের জন্য মুখ্যত ছিল অপরিকল্পিত, স্বতঃস্ফূর্ত এবং উপস্থিত সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এই যুদ্ধের রাজনৈতিক উপাদান সম্পর্কে এদের অধিকাংশের জ্ঞানও ছিল সীমিত। তবু বিদ্রোহ ঘোষণার সাথে সাথে পাকিস্তানী বাহিনী সীমান্ত পর্যন্ত এমনভাবে এদের তাড়া করে নিয়ে যায় যে এদের জন্য পাকিস্তানে ফিরে আসার পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়। হয় ‘কোর্ট মার্শাল’ নতুবা স্বাধীনতা – এই দু’টি ছাড়া অপর সকল পথই তাদের জন্য বন্ধ হয়ে পড়ে।”
★ বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ভাষ্যমতে:
“বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নন। গ্রেফতার হওয়ার আগপর্যন্ত তিনি মুক্তিসংগ্রামের প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব দিয়েছেন। গ্রেফতারের পর তার পরোক্ষ নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। তিনি দেশ ও স্বাধীনতার জনক, এটা ঐতিহাসিক সত্য; কিন্তু তিনি স্বাধীনতার ঘোষক নন। সামরিক বাহিনী থেকে তত্কালীন মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। রেডিওতে তার ঘোষণাই প্রচারিত হয়েছিল। জিয়ার কণ্ঠ মানুষের মন ছুঁয়েছিল। তার কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা শুনেই মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। জিয়া নিজেও ২৭শ’ সৈন্য নিয়ে যুদ্ধ শুরু করেন।”
(প্রসংগত উল্লেখ রাখা প্রয়োজন এই কাদের সিদ্দীকী শেখ মুজিবকে নিজের আপন পিতার থেকেও বেশী কিছু মনে করেন ৷ যিনি মুজিবহত্যার পর প্রথম ও একমাত্র বিদ্রোহী !)
★ প্রয়াত ডঃ ওয়াজেদ মিয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন:
“(তিনি ও শেখ হাসিনা দু’জনে রেডিওতে জিয়ার সেই ঘোষণা শুনেছেন মালিবাগে বসে।) যুদ্ধের গোটা ন’মাস ওই ঘোষণাই ছিলো একমাত্র নির্দেশ, যা স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে বার বার ধ্বণিত হয়েছে। এর পরের ন’মাস কেবল দেশ হানাদার মুক্ত করার লড়াই, এ লড়াইয়ে যোদ্ধাদের তালিকায় যুক্ত হয় ছাত্র-যুবা-কৃষক- শ্রমজীবি-কর্মজীবি মানুষ। এ সময়ে জিয়া দু’টি সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করলেন, জেড ফোর্স সৃষ্টি করলেন যা বর্তমানে কুমিল্লার ৩৩ পদাতিক ডিভিশন; একে একে বাহাদুরাবাদ যুদ্ধ, কামালপুরের যুদ্ধ, সিলেটের যুদ্ধ, নোয়াখালীর যুদ্ধ, চিলমারীর যুদ্ধ, সালুটিকর বিমানবন্দর যুদ্ধ, জকিগঞ্জ যুদ্ধ সহ অসংখ্য যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন জিয়া।”
★ ইন্দিরা গান্ধীর ভাষ্যঃ
পাকিস্তানের কারাগারে আটক শেখ মুজিবর রহমানকে পাকিস্তান সরকার রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে হত্যার উদ্যোগ নিলে প্রধানমন্ত্রী গান্ধী মুজিবের পক্ষে জনসমর্থন সৃষ্টির লক্ষ্যে পৃথিবীর কয়েকটি গুরুত্বপুর্ণ রাজধানী সফরকালে ৬ নভেম্বর, ১৯৭১ তারিখে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বক্তৃতায় বলেন:
The cry for independence arose after Sheikh Mujib was arrested and not before. He himself, so far as I know, has not ask for independence even now.
(Ref. Bangladesh documents vol-II, page 275 Ministry of external affairs, Govt of India-1972)
★ INDEPENDENT BANGLADESH PROCLAIMED!
The beginning of the history of an Independent
& Sovereign Bangladesh was made when Major Ziaur Rahman, an Officer of the
8th battalion of the EBR(East Bengal Regiment) at Chittagong, on 26th March
1971, shortly after the military crack-down, made an electrifying broadcast on
“Swadhin Bangla Betar Kendra”(Free Bangla Radio) announcing the establishment
of an Independent Bangladesh!!!
Chapter-03; Page-93; Official 1971 War History;
History Devision, Ministry Of Deffence
★ ভারতের রাষ্ট্রপতি রেড্ডির ভাষ্যঃ
১৯৭৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি হিসেবে জিয়াউর রহমান ভারতে গেলে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডি তার
প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন :
“একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম
ঘোষণা দানকারী হিসেবে আপনার মর্যাদা এরই মধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত।”
★ Brigadier (Retd) Zahir Alam Khan এর লেখা “THE WAY IT WAS -” বইয়ে আরো সূচারূভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে শেখ মুজিবর রহমানকে গ্রেফতারের পর কিভাবে কখন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষনা করলেন (পৃষ্ঠা-১১)
★ Gurmeet Karwal ও V. K. Shrivastava রচিত “Defenders of the Dawn : A Panorama of Eastern Command” গ্রন্থেও ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যের হুবহু তথ্য পাওয়া যায় বইটির ৯০ পৃষ্ঠায়।
“An overwhelming response to the call for a general strike on 01 March 1971 brought the eastern wing to a stand still. Lieutenant General Sahabzada Yakub Khan, the Martial Law Administrator, imposed a curfew but was soon obliged to order troops back to the barracks as Mujib cautioned him of dire consequences. The incident gave a clear indication of Mujib’s firm hold on the people of East Pakistan. This hold was further substantiated when the Chief Justice of East Pakistan High Court declined to administer the oath of office to the newly appointed Governor and Martial Law Administrator, Lieutenant General Tikka Khan, on 07 March 1971. Soon civil disobedience crept into other organs of the state, notably the police and the East Pakistan Rifles. Consequently, while President Yahya Khan held a series of discussions with Sheikh Mujib in Dacca, 16 Pakistan Infantry Division was already being inducted there by air. Yahya Khan left Daca abruptly on 25 March 1971 and Tikka Khan let loose his reign of terror the same night. The next day, while the whereabouts of Mujib remained unknown, Major Ziaur Rahman announced the formation of the Provisional Government of Bangladesh over Radio Chittagong. Driven out by military atrocities, the initial trickle of East Pakistani refugees into India soon turned into a spate. In due course their number was to cross the ten million mark – each with his own account of the unimaginable brutalities inflicted mercilessly by the Pakistan Arm.
★-জে এন দীক্ষিত ।
বাংলাদেশে ভারতের প্রথম ডেপুটিহাইকমিশনার যিনি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন ।Liberation And Beyond : Indo-Bangladesh Relations,(Dhaka, UPL, 1999) বইটিতে তিনি বলেন ,
“চট্টগ্রামের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টেরকমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমান (যিনি ১৯৭৬-৭৭ সময়কালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিহয়েছিলেন) স্বল্পকালীন পরিসরে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র দখল করেন এবং সেই কেন্দ্র থেকেস্বাধীন বাংলাদেশের ঘোষণা দান করেন। সেই ঘোষণায় তিনি বাংলার সকল সামরিক ওআধা-সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পাকিস্তান বাহিনীকে প্রতিরোধের আহ্বান জানান।
শেখ মুজিবুর রহমানের গ্রেফতার হওয়ার আগে রেকর্ড করাতাঁর ঘোষণার পূর্বেই জিয়াউর রহমানের ঘোষণা প্রচারিত হয় (“Infact, Ziaur Rahman’s broadcast came a little earlier than Mujib’sbroadcast.”-Ibid)।’’
★ প্রয়াত ভাষাসৈনিক অলি আহাদ এর গ্রন্থ থেকেঃ
“কিন্তু জিয়া কেনো সেনাবিদ্রোহ ও স্বাধীনতা ঘোষণা করতে গেলেন? তিনি তো কোনো রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, এমনকি কর্নেল ওসমানীর মত নির্বাচিত প্রতিনিধিও ছিলেন না। স্বাধীনতা ঘোষণার জন্য তার কাছে কোনো রাজনৈতিক ম্যান্ডেট ছিল না। একজন রাজনীতিক যখন তখন ইচ্ছামত বলতে পারেন, করতে পারেন; কিন্তু একজন সৈনিক তা পারে না। তার হাতে থাকে মারনাস্ত্র- তা হয় শত্রু মরবে, নয়তো নিজেই। সেখানে বিদ্রোহ মানে তো নির্ঘাত মৃত্যুদন্ড। জানবাজি রাখা এ বিদ্রোহ করতে জিয়ার ওপরে কোনো কতৃপক্ষের হুকুম বা নির্দেশনাও ছিল না। নির্বাচনে বিজয়ী দলের (আওয়ামীলীগের) প্রধান আটক, বড় ছোট নেতা সবাই নির্দেশমত পলাতক, এমনকি চট্টগ্রামের সেনা বিদ্রোহের সংবাদটিও রেডিও ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে তাদের কাছে পৌছানো যায়নি। এরূপ দুঃসহ পরিস্থিতিতে, একজন সৈনিক হয়ে জিয়া “স্বাধীনতা ঘোষণা”র মত বিপদময় কঠিন রাজনৈতিক কাজটি করতে গেলেন, কেনো এবং কোন সাহসে? সে মুল্যায়ন বা প্রশ্নটি আজ পর্যন্ত কেউ মিলিয়ে দেখেন নি। এমনকি যুদ্ধ চলাকালেও আওয়ামীলীগের নেতারা আশা করত, পশ্চিমের সাথে আপোষরফা হয়ে যাবে, এবং ক্ষমতা হস্তান্তর হবে।”
(সূত্র : জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫-৭৫)
★ ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত,বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের উপর রচিত সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্যসম্বলিত বইটির নাম হচ্ছে –
হিস্টোরি অফ ফ্রিডম মূভমেন্ট ইন বাংলাদেশ (প্রকাশকাল-১৯৭৪), লেখকঃ জ্যোতি সেন গুপ্ত; সুবিখ্যাত ভারতীয় বংশোদভূত সাংবাদিক।
১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে তিনি একাধারে ছিলেন –
১) ফরেন করেসপন্ডেন্ট, প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (পিটিআই)
২) স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট “টাইমস অফ ইন্ডিয়া।”
৩) স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট “দি ইকোনমিক টাইমস।”
সেই বইয়ে চাক্ষুস সাক্ষীর বর্ণণায় উল্লেখ আছে।
★ সিদ্দিক সালিক এর গ্রন্থ থেকেঃ
“কেবল একাত্তরের মার্চ মাসেই অন্তত তিন তিন বার মুজিব ইয়াহিয়াকে অনুরোধ করেছেন, তাকে (মুজিবকে)
আটক করতে, পাছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা স্বাধীনতা ঘোষনা করে ফেলে! শেষ পর্যন্ত, বিচ্ছিন্নতাবাদী জিয়াই কি রাষ্ট্রদ্রোহীর সে কাজটি করে ফেললেন!”
★পাকিস্তানী সামরিক অফিসার মেজর জেনারেল (অবঃ) রাও ফরমান আলী খান রচিত বই থেকেঃ
★পাকিস্তানী সামরিক অফিসার লেঃ জেনারেল (অবঃ) কামাল মতিনউদ্দীন রচিত বই থেকেঃ
★মেজর জেনারেল (অবঃ) সুখওয়ান্ত সিং রচিত বই থেকেঃ
★ মেজর জেনারেল (অবঃ) শফিউল্লাহ রচিত বই থেকেঃ
কে এম সফিউল্লাহ বীরউত্তম তার বই BANGLADESH AT WAR এর পৃষ্টা ৪৪-৪৫ এ স্বাধীনতার ঘোষনা সম্পর্কে যা বলেছেন,
“All the troops then took an oath of allegiance to Bangladesh. The oath was administered by Zia at 1600 hrs on March 26. Thereafter, he distributed 350 soldiers of East Bengal Regiment and about 200 troops of East Pakistan Rifles to various task forces under command of an officer each. These task forces were meant for the city. The whole city of Chittagong was divided into various sectors and each sector was given to a task force. After having made these arrangements, Zia made his first announcement on the radio on March 26. In this announcement apart from saying that they were fighting against Pakistan army he also declared himself as the head of the state. This, of course, could have been the result of tension and confusion of the moment. As the battalion began to gather strength, in the afternoon of March 27, Zia made another announcement from the Shawadhin Bangla Betar Kendra established at Kalurghat.” (Ref: Maj.Gen.K.M. Safiullah psc, Bir Uttam: Bangladesh at war, Academic Publisher,
বর্তমান আওয়ামীনেতা কে এম সফিউল্লাহ তার বইয়ে স্পষ্টই বলেছেন, জিয়া ২৬শে মার্চ প্রথম ঘোষণাটি দেন এবং নিজেকে রাষ্ট্রের প্রধান হিসাবে ঘোষনা করেন। পরবর্তীতে ২৭শে মার্চ জিয়া কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে আরেকটি ঘোষণা দেন। বর্তমান আওয়ামী লীগ এই ২৭শে মার্চের ঘোষণাটার কথা বলে এবং ২৬শে মার্চ প্রথম ঘোষণাটি সম্পূর্ণ চেপে যায়।
★ আওয়ামীলীগ নেতা এম.এ.মোহাইমেনঃ
স্বাধীনতার দাবী নয়, পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য প্রমাণের জন্যই শেখ মুজিব পাক-বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। এ সম্পর্কে সাবেক আওয়ামী লীগ এম.পি. মরহুম এম.এ. মোহাইমেন তার ঢাকা আগরতলা-মুজিব নগর গ্রন্থে লিখেছেন, “শেখ সাহেবের এভাবে সেদিন রাতে ধরা দেয়াকে আমি কোনদিন মনের সঙ্গে যুক্তি দিয়ে খাপ খাওয়াতে পারিনি। অন্যেরা যে যাই বলুক, আমার নিজের ধারণা আওয়ামী লীগের নেতারা তাজউদ্দীন সাহেবের নেতৃত্বে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের সহায়তায় মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করে এভাবে দেশ স্বাধীন করবে, এটা তিনি ভাবতে পারেননি। তার ধারণা ছিল অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পাকবাহিনী অবস্থা আয়ত্ত্বে নিয়ে আসতে পারবে। এছাড়া তার এ ধারণাও ছিল যে, আগরতলা মামলার সময় তাকে যেভাবে দেশের মানুষ আন্দোলন করে জেল থেকে বের করে এনেছিল, সেভাবে দু’তিন বছর পরে তুমুল আন্দোলনের ফলে পাকিস্তান সরকার তাকে মুক্তি দিয়ে তার হাতে অর্পণ করতে বাধ্য হবে।”
তথ্যসূত্র:
বাংলা নামের দেশঃ বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবর রহমান কর্তৃক স্বাক্ষরিত গ্রন্থ
মূলধারা:৭১ : মইদুল হাসান তরফদার
জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫-৭৫ : ভাষাসৈনিক অলি আহাদ
অনন্য জিয়াউর রহমানঃ গোলাম মোস্তফা
ঢাকা আগরতলা-মুজিব নগরঃ এম.এ. মোহাইমেন
Bangladesh documents vol- I & II

সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫১৭ বার

( বি: দ্র: প্রবাস নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত প্রবাস নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ

x
সর্বশেষ