আজ ১২ই ডিসেম্বর ২০১৭, ২৮শে অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫শে রবিউল-আউয়াল ১৪৩৯

দেশনায়ক তারেক রহমানের শ্বশুরের মিলাদ মাহফিলে জনতার ঢল কেন?

আগস্ট ৯, ২০১৭

মোঃ আজমল হোসেন পাইলটঃ গত ০৬.০৮.১৭ ইং তারিখে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জেষ্ঠ পু্ত্র দেশনায়ক তারেক রহমানের শশুর মরহুম রিয়ার এ্যাডমিরাল এম মাহবুব আলী খন্দকার সাহেবের মৃত্যুবার্ষিকীর দোয়া ও মিলাদ মাহফিল ছিল মরহুমের নিজ বাসস্থান ধানমন্ডিতে।

বিগত কয়েক বছর ধরে দেশনেত্রীর বাস ভবন থেকে গাড়ীর বহরে বাইক চালিয়ে সেই মাহফিলে অংশগ্রহন করেছি। এই বার দেশনেত্রী দেশের বাহিরে, তাই কিছুটা মন ভাঙ্গা ছিলো। কেমন জানি শুন্য শুন্য লাগছিলো। যাক্!

নিন্দুকেরা প্রতিবার বলে থাকেন, দেশনেত্রী উপস্হিত থাকেন বলেই ঐ মাহফিলে মানুষের ঢল নামে! বলতেই পারেন! দেশনেত্রী যেখানে যাবেন সেখানে মানুষের ঢল নামবে এটা তো খুবই সাধারণ গণিত!
কিন্তু প্রশ্নটা অধমের ওইখানে যে, এবার তো দেশনেত্রী উপস্হিত ছিলেন না। বা তিনি উপস্হিত থাকবেন এমন সুযোগও নেই। বা উপস্হিত থাকতে পারবেন এমনটা কেউ মনেও করে নি!
তাহলে এত হাজার হাজার মানুষ কেন এলেন?
জ্ঞানী পাপীদের কাছে অনেক ব্যাখ্যা থাকতে পারে! আমি অধমের কাছে কী ব্যাখ্যা আছে? দেখি একটু?
শহীদ জিয়ার জানাজা এদেশের সর্ববৃহৎ জানাজা।
দিব্য চোখে দেখেছি আর জীবনের সবচেয়ে বড় জানাজায় অংশগ্রহন করেছিলাম আরাফাত রহমান কোকো’র জানাজায়। একটি ভয়ংকর রাজনৈতিক বৈরি সময়ে সেই জানাজাটি অনুষ্ঠিত হয়ে ছিলো। মিলেনিয়াম প্রজন্ম দেখেছে মানুষের ভালোবাসা কাকে বলে!
জিয়া পরিবারের রক্তের ফোটা যেখানে আছে দেশের মানুষ তাদেরকে ইজ্জত করে।

আসি, এই যে একটি গুমোট রাজনৈতিক আবহাওয়া এর থেকে মানুষ মুক্তি চায়। আর সেই মুক্তির বার্তাবাহক মানুষে বিশ্বাস করে যে জিয়া পরিবারের কারো পক্ষেই তা সম্ভব। তাই যেখানেই জিয়া পরিবারের গন্ধ পাওয়া যায়, মানুষ সেখানে গিয়ে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে হাল্কা করার চেষ্টা করে। নয়ত দেশনেত্রী থাকবেন না, দেশনায়কও আসবেন নাহ! কোন রাজনৈতিক কর্মসূচীও ছিলো না! তবে হাজার হাজার মানুষ কেন আসলেন একটি মিলাদ মাহফিলে!
নিন্দুকেরা নিন্দার মালা নিয়ে পড়ে থাকুক আর সত্য-সুন্দরের পুষ্পমাল্য বরাবরই জিয়া পরিবারে কপালেই জোটে।

আরো অবাক করার মতো বিষয় ছিলো, তরুন প্রজন্মের ব্যাপক উপস্হিতি। ওরা দেখছে চলমান ১ দশকে দেশের শাষক শ্রেণীর ক্ষমতার নগ্নরুপ, খুন, হত্যা, ধর্ষন, লুটপাট, পাচার, দাম্ভিকতা, ক্ষমতাবানদের হিংস্র হায়েনার মতো আচরণ! মিথ্যার বেসাতি! দেখে দেখে ওরা হাঁপিয়ে উঠছে! ওরা ক্ষুব্ধ! ওরা দেখতে চায় না শাহবাগীদের মতো চেতনার নামে বানিজ্য।
তাই ওরা আজ শহীদ জিয়ার আদর্শ আর জিয়া পরিবারের মধ্যে সেই মুক্তির পথ অন্বেষন করছে।

মানুষের এই বাঁধ ভাঙ্গা ভালোবাসার কারণ শহীদ জিয়া, দেশনেত্রী ও দেশনায়কের সর্বপোরি জিয়া পরিবারের সততা আর দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মুলত জিয়া পরিবারকে ঘিরে মানুষের এই উচ্ছ্বাস আবেগ বা মায়ার যে জায়গাটি দীর্ঘকাল ধরে তৈরী হয়েছে তা সহ্য হয় না বলেই জিয়া পরিবারের প্রতি অমানবিক আচরণ কর হয়।
অপর পক্ষে চলমান রাষ্ট্র ব্যবস্হার প্রতি মানুষের তীব্র ঘৃনার বহির্প্রকাশ দেখাতেই সেদিন হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন ধানমন্ডির সেই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে।

লেখকঃ মোহাম্মদ আজমল হোসেন পাইলট
সহ-সভাপতি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল,কেন্দ্রীয় কমিটি

সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৫৭৯ বার

( বি: দ্র: প্রবাস নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত প্রবাস নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ

x
সর্বশেষ