আজ ১৯শে অক্টোবর ২০১৭, ৪ঠা কার্তিক ১৪২৪, ৩০শে মুহাররম ১৪৩৯

লন্ডনের ডাক পৌঁছে গেছে সবখানে

আগস্ট ২১, ২০১৭

রফিক আহমেদ: এ এক অনন্য অসাধারণ সৌন্দর্য। যারা দূরে থেকে এ দৃশ্য দেখেছেন তাদের হাত এমনিতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে এই ভেবে, যদি তারেক রহমানের হাতটাকে নাগাল পাওয়া যেত। সেই হাত সরাসরি কাছে পেতে ১৬ কোটি মানুষ এখন তাদের দু’হাতই বাড়িয়ে আছে। ডিজিটাল জগতের ভেতর দিয়ে তাদের মনটাও উপস্থিত হয়ে থাকে হাজার হাজার মাইল দূরের লন্ডনের অনুষ্ঠান পর্বগুলোতে। শুধু বাংলাদেশের কোটি কোটি জনতাই নয় অষ্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড থেকে আমেরিকা-কানাডা পর্যন্ত প্রবাসে বিস্তৃত বাংলাদেশিরা তারেক রহমানকে দেখে নতুন করে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মানুষের হৃদয়ের কথাগুলো যেভাবে শুনতে ও বুঝতে পারতেন তারই সুযোগ্য সন্তান জাতীয়তাবাদের সেরা দার্শনিক তারেক রহমান সেই অনুভূতিরই পরিপূর্ণ ধারক। একটি ঘোষণা যেমন সাড়ে সাত কোটি মানুষকে তুড়ি মেরে জাগিয়ে দিয়েছিল, তার সুযোগ্য সন্তান আজ ষোল কোটি মানুষকে আবার জাগিয়ে তুলেছেন।

‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাচাঁও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন, বিএনপিতে যোগ দিন’ শ্লোগান নিয়ে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়েজিত নতুন সদস্যপদ গ্রহণ ও নবায়ন অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত প্রতিটি নেতাকর্মী তারেক রহমানের হাত ধরে দলের আদর্শকে আবার নবায়ন করে নিলেন। এসব নেতাকর্মীরা নিজেরাই বলেছেন, সেই অনুভূতি, সেই সময়, এখনো অমৃতের স্বাদ হয়ে জেগে আছে। এ অনুভূতি ও স্বাদ জেগে থাকবে তাদের আমৃত্যু। তারা নিজকে পৃথিবীর সবচেয়ে সৌভাগ্যবান মনে করছেন।
বাংলাদেশের প্রায় অর্ধশত টেলিভিশন অনুষ্ঠানটির কোন খবরাখবর প্রচার করেনি। শত-শত দৈনিক ও হাজার হাজার অনলাইন পোর্টাল কেউ ঐরকম কোন অনুষ্ঠান হয়েছে বলে তাদের পাঠকদের খবর দিতে নারাজি। কারণ তারেক রহমানের জন্মভূমিতে এখন দখলদাররা বসে আছে। শোষণ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছে সব। দেশটির গনতন্ত্র এখন গণতন্ত্রের জনক দেশ যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত। স্বৈরাচারী, একনায়কতন্ত্র ও হিটলারবাদের চেয়েও বিভীষীকাময় এক নতুন ব্যবস্থা চালু করে দেশের সব দখল করে বসে আছে সন্ত্রাসবাদী আওয়ামী স্বৈরনায়কতন্ত্র। আদালতকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উত্থানের প্রবাস থেকে সংগ্রাম চেতনার সকল অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে আরও কয়েক বছর আগে।

১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আহবানে ও তার সমর্থনে সাড়া দিয়ে সুদূর এই লন্ডন শহরের রাসেল স্কয়ারে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা মিলে স্বাধীনতার পক্ষে মিছিল করেছিল। প্রবাসী নারী-পুরুষেরা সমবেত হয়ে সেই প্রেরণাকে স্বাধীনতার উপকন্ঠে নিয়ে গিয়েছিলেন। আবার ২০১৭ সালে তারেক রহমানের আহবানে বাংলাদেশের গণতন্ত্র মুক্তির সংগ্রামের সমর্থনে আবার সেই শহরটা জেগে উঠেছে। গণতন্ত্রের সাথে নির্বাসিত বিশ্ব বাংলাদেশিরা আবারও মিছিল করছে, সমাবেশ করছে সেই লন্ডন শহর থেকে। নতুন মু্ক্তির সংগ্রামে ঝাপিয়েঁ পড়তে প্রবাসীরা নবায়ন করছেন তাদের জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক শপথ। গত ১৪ আগস্ট লন্ডনে অনুষ্ঠিত সমাবেশটি ছিল জাতীয়তাবাদের নেতা-কর্মীদের জেগে উঠার চূড়ান্ত শপথ। কেননা তার মনে করেন, এখনই সঠিক সময় বাংলাদেশের আপামর জনতাকে মুক্তি করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার।

সেই মহানায়ক, দেশনায়ক, কোটি কোটি জনতার মুক্তির দূত, নতুন মুক্তির গানের সুরস্রষ্ঠা, বাংলাদেশের আপামর জনতা তাদের স্বপনে জাগরণে যার অপেক্ষায় আছেন সেই মহাবীর, গণতন্ত্রের মহাকবি বাংলাদেশের ভবিষ্যত কান্ডারী তারেক রহমানের নিকট স্পর্শে আগেই উজ্জীবিত হয়েছেন যুক্তরাজ্যের নেতা-কর্মীরা। তাদের আনন্দ ও আবেগের প্রবল উচ্ছ্বাস কেউ থামাতে পারেনি, পারবেও না। বাংলাদেশের টিভি-পত্রিকা ও অনলাইনগুলো অন্ধ থাকলেও সেই মুক্তির বার্তা বারবার পৌঁছে গেছে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ ছাপিয়ে বিশ্বময় বাংলাদেশিদের কাছে। আর এতেই নতুন ধরফরানি শুরু হয়েছে দখলদারদের কলিজায়। এখন পাসপোর্ট অফিসগুলোতে নাকি তাদের চেলা চামচাদের ভীষণ ভীড় বেড়ে গেছে।

সেই অনুষ্ঠানে বিএনপির নবায়ন ফরম পূরণ করেছেন কেমডেন ও ওয়েস্টমিনিস্টার বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল শিপু। তিনি ফেইসবুকে লিখেছেন, গত ১৪ আগস্ট দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতে বিএনপির সদস্য পদ নবায়ক করলাম। জাতীয়তাবাদী পরিবারের আদর্শের সেরা দার্শনিক তারেক রহমানের হাতে ধরে নতুন করে উজ্জীবিত বাংলাদেশ ও প্রবাসের বিএনপির নেতাকর্মীরা। লন্ডনের প্রতিটি আয়োজন গণতন্ত্রের মুক্তির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
নর্থ-ওয়েস্ট বিএনপির সহসভাপতি শাহীন আহমেদ লিখেছেন, আজ ১৪ আগস্ট আমার নেতা বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমার সদস্য নবায়ন ফরম হাসিমুখে গ্রহন করেছেন। দীর্ঘ ২৪ বছর আগে বিএনপির সদস্য ফরম পূরণ করেছিলাম। আজ আবার দলের পদ নবায়ন করে খুবই অনন্দ অনুভব করছি। কেননা আজ এর সাক্ষী হয়ে আছেন স্বয়ং তারেক রহমান। এরচেয়ে আনন্দ আর কি হতে পারে?

যুক্তরাজ্য বিএনপির সহসভাপতি গোলাম রব্বানী আহমেদ লিখেছেন, তারুণ্যের অহংকার, আগামীর রাষ্ট্রনায়ক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নিকট হতে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পত্র গ্রহণ করে নিজকে ধন্য মনে করছি। অতীতে দেশনায়কের প্রতিটি প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য হয়েছে। আজ তার হাতে শপথ নিয়েছি, আগামীর আন্দোলন সংগ্রামে দেশে ও প্রবাসের সকল আয়োজনে জীবনবাজি রেখে দল ও দেশের জন্য কাজ করব।
কলচেস্টার বিএনপির সভাপতি মিছবাহ উদ্দিন লিখেছেন, ইতিহাস স্বাক্ষী হয়ে রইল লন্ডনের আজকের সদস্যপদ নবায়ন কর্মসূচী। এতে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকে নেতা-কর্মীর মতোই আমি আনন্দের অত্যাধিক অনুভূতিতে ভাষাহীন হয়ে আছি। শুধু আবেগের শিহরণ ঢেউ শরীর-মনে বয়ে যাচ্ছে বারবার। এসব ঢেউ সব বাধা ভেঙ্গে খান খান করে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনকে সফল করে তুলবেই।

তারেক রহমানের দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল হল এখন সন্ত্রাসবাদী আওয়ামী স্বৈরনায়কতন্ত্রী সরকারের এতকাল ইস্যু তৈরীর ভূয়া মেশিনটা এখন ফাটছে না। জনগণকে বোকা বানিয়ে দৃষ্টি ঘুরানো কোন আইটেমই আর কাজে আসছে না। আওয়ামী লীগের অন্দর মহলের চেহারা এখন ১৬ কোটি জনগণের স্যাটেলাইটে চলে গেছে। তারেক রহমানের এ আন্দোলনের ফসল হল এখন বিচারপতিরাও সাহস করে জনগণের পক্ষে রায় দিচ্ছেন। তারা স্পষ্ট করে বলেছেন যে, দেশে গণতন্ত্র নাই। সবশেষ ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে বর্তমান হাসিনার সরকার যে অবৈধ এবং জনগণ যে তাদের কাছে দেশময় জিম্মি তাই বুঝিয়ে দিয়েছে বিচার বিভাগ। দেশবাসীরা তাই বলেছেন, “এবার সেই নেতা আসছেন, আর অবৈধদের পতন সন্নিকটে।”

সংবাদটি পড়া হয়েছে ২১৫ বার

( বি: দ্র: প্রবাস নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত প্রবাস নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ

x
সর্বশেষ