আজ ১৮ই নভেম্বর ২০১৭, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১লা রবিউল-আউয়াল ১৪৩৯

কোলের শিশুকে পুড়িয়ে আমাকে ধর্ষণ করে সেনারা (ভিডিও)

অক্টোবর ১৪, ২০১৭

সাদিক আমার কোলেই ছিল যখন বার্মিজ সেনারা আমাকে আঘাত করে। আঘাতের পর সে আমার কোল থেকে পড়ে যায়। এরপর সেনারা আমাকে দেওয়ালের কাছে টেনে নিয়ে যায় এবং আমি আমার শিশুর কান্না শুনতে পাই। এর কয়েক মিনিট পরই শুনতে পাই, তারা আমার শিশুকেও মারছে। এরপর তাকে আগুনে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়।

কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রজুমা তার দেড় বছরের শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার এই দৃশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। রজুমা বিশ্বাসই করতে পারছেন না তার শিশু সাদিককে মেরে ফেলা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, সন্তানকে হত্যার পর তাকে গণধর্ষণও করেছে বর্বর বার্মিজ সেনারা। সেইসঙ্গে স্বামী ছাড়া তার সব আত্মীয়কে হত্যা করা হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধরা মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর নিধন অভিযান শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫ লাখ ৩৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদেরই একজন রজুমা। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রায় সবারই রজুমার মতো অভিজ্ঞতা রয়েছে।

কারণ সেনাদের নির্বিচার গুলি ও অগ্নিসংযোগে কেউ হারিয়েছেন বাপ, কেউ মা, কেউ বা মা-বাবা উভয়কেই। চোখের সামনে কেউ মা, কেউ বোন কিংবা কেউ মেয়েকে ধর্ষিত হতে দেখেছেন, অথবা নিজে ধর্ষিত হয়েছেন।

আলজাজিরার প্রতিবেদক মোহাম্মাদ জামজুমকে রজুমা বলেন, ‘যখন সেনারা আমাকে মারতে শরু করে তখন দেড় বছর বয়সী শিশু-সন্তান সাদিক আমার কোলে। সেনাদের মারের চোটে সাদিক আমার কোল থেকে পড়ে যায়। তারপর তারা আমাকে টেনেহিঁচড়ে দেয়ালের কাছে নিয়ে যায়। তখন আমি শুনতে পাই আমার সন্তান কাঁদছে। এর কয়েক মিনিট পর শুনতে পাই, তারা আমার সন্তানকে মারছেও। আমি সাদিককে আবারও জাপ্টে ধরলে তারা কোল থেকে কেড়ে নিয়ে আমার সন্তানকে আগুনে ছুড়ে মারে। পরে আমাকে তারা সবাই মিলে ধর্ষণ করে।’

রাখাইন রাজ্যের তুলা তুলি গ্রামে সব সময় খেলে বেড়ানো আদরের সন্তান সাদিক আর নেই, এটা বিশ্বাসই করতে পারছেন না রাজুমা। সন্তানহারা এই মা বলেন, ‘তখন আমার মনে হচ্ছিল, আমিই ওই আগুনে পুড়ছিলাম।’

ওই দিন রাজুমার মা, দুই বোন ও একভাইকে হত্যা করে মিয়ানমারের সেনারা। এখন তার পরিবারে শুধু স্বামী মোহাম্মদ রফিক ছাড়া আর কেউ বেঁচে নেই।

এরপর থেকেই রাজুমা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু মানসিক চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্ত না থাকায় তাকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান স্বামী রফিক।

রফিক বলেন, ‘মাঝে মাঝে রাজুমা বলে, তার মাথা ঘুরছে। এটা সে সহ্য করতে পারে না, ওই সময় তার অনেক কষ্ট হয়। মাঝে মাঝে সে আমাদের সন্তানকেও দেখতে পায়। তখন রাজুমা চিৎকার করে কেঁদে উঠে। এখন সে প্রতিদিন কাঁদে।’

 

সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬৬ বার

( বি: দ্র: প্রবাস নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত প্রবাস নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ

x
সর্বশেষ