আজ ২৪শে জানুয়ারি ২০১৮, ১১ই মাঘ ১৪২৪, ৮ই জমাদিউল-আউয়াল ১৪৩৯

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : বিজয় নিশান উড়ছে ঐ…

ডিসেম্বর ১৯, ২০১৭

সংবাদমাধ্যম বিবিসিবাংলা ২০১০ সালের ১০ মে ‘ভারতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার অনেক গুরুত্বপূর্ণ দলিল নষ্ট করে ফেলার খবর ফাঁস হওয়ার পর এ নিয়ে সেখানে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন পরিবেশন করে। বিষয়টি ১৭ কোটি বাংলাদেশীর চোখ নিশ্চয়ই এড়িয়ে যায়নি কিন্তু আমার চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বিবিসিবাংলা উল্লেখ করে, ভারতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার অনেক গুরুত্বপুর্ন দলিল নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। কেন, কখন এবং ঠিক কিভাবে অথবা কোন কারনে এই ভয়ংকর কাজটি করা হলো রিপোর্টে সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি বা বিবিসি তার বিস্তারিত বিবরণ পায়নি অথবা বিবিসি ইচ্ছে করেই এই কাজটি করেছে কিংবা বিবিসিকে দিয়ে ভারত সরকার বাংলাদেশীদের প্রতি কোন একটা মেসেজ থ্রো করেছে, যেখানে এরচে বেশি কিছু বলার প্রয়োজন নেই বা ছিল না। তবুও সে রিপোর্টের মাধ্যমে যতটুকু জানা যায় তার সার কথা হল, ভারতীয় সেনাবাহিনীর পুর্বাঞ্চলীয় কমান্ডারেরা এসব নথি ধ্বংস করেছেন। জেনারেল জ্যাকব, মুক্তিযুদ্ধের সময় যিনি ছিলেন ভারতের পুর্বাঞ্চলীয় ডেপুটি কমান্ডার। মি জ্যাকব যখন প্রমোটেড হয়ে পুর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার হিসেবে যোগদান করেন তখনই বিষয়টি তার নজরে আসে যদিও এ বিষয়ে কারো কাছ থেকেই তিনি কোন সদুত্তর পাননি বলে বিবিসিকে জানান।

ভারতের ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র শাকিল আহমেদ বলেন, ৯৩ হাজার পাকিস্তানী সেনা ১৯৭১ সালে ভারতের কাছে আত্মসমর্পন করেন। এ রকম আত্মসমর্পনের দলিল বিশ্বে দ্বিতীয়টি নেই। মজার ব্যাপার হলো এই দলিলগুলো তৈরী হয় ১৯৭১-৭২ সালের মধ্যে এবং এসবের ধ্বংসায়ন পর্ব শেষ হয় ১৯৭৪ সালের মধ্যেই। এই কান্ডের শুরু এবং শেষ- দুই কান্ডের সময়ই ক্ষমতায় ছিলেন মহীয়সী নারী ইন্দিরা গান্ধী।

ভারতের প্রধান বিরোধী দল বিজেপিও এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে এবং কিভাবে এরকম ঘটনা ঘটতে পারলো তার তদন্ত দাবী করেছে। বিজেপির একজন নেতা তথাগত রায় এর পেছনে কোন ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

ভারতের একটি কমিউনিষ্ট দল সিপিআইও এ ঘটনার নিন্দা করে বলেছে, দলিলপত্র ধ্বংস করা ঠিক হয়নি। প্রতিবেদনটিতে জানায় বিবিসি।

উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পনের দলিলে ডিসেম্বর ১৬, বিকেল ৪ঃ৩১ ঢাকার রমনা রেসকোর্স ময়দানে জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী সই করেন। পাকিস্তানের আত্মসমর্পনের দলিল তিন প্রস্থে প্রস্তুত করা হয়েছিল। একটি প্রস্থ ভারত সরকার, একটি প্রস্থ পাকিস্তান সরকারের নিকট সংরক্ষিত আছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রাপ্য দলিলটি নেই। উধাও হয়ে গেছে। যে টেবিলে এ দলিলটি সাইন হয়, তা ঢাকা ক্লাব থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।

মুল যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে স্নায়ু যুদ্ধকে। সেক্ষেত্রে আমরা কি ধরে নিতে পারি, আমেরিকা রাশিয়ার স্নায়ু যুদ্ধের বলি হয়েছে পুর্ব পাকিস্তান? নাকি তাদের হোলি খেলার কো-ল্যাটারাল ড্যামেজের শিকার পশ্চিম পাকিস্তান? বিষয়টা কি আলোচনার দাবি রাখে নাকি এটিও অলিখিত নিষিদ্ধ কোন গন্ধম, যার ধারে কাছে যেতেও নিষেধ করে দিয়েছিলেন স্বয়ং ঈশ্বর? আবার শয়তানকে সাপের বেশে ময়ূরের পেটে ধরিয়ে বেহেস্তে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছিলেন সে-ই তিনিই। তা না হলে বিতারিত শয়তান কিভাবে হাওয়ার স্বাক্ষাত পায়?

আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধকে সাধারণ আম আদমি পাকিস্তানীরা কোন দৃষ্টিতে দেখে তা জানার ভারী সাধ হয়েছিল আমার। আমি একটা ব্লগ এড্রেস খুজে বের করলাম যেখানে লেখক শপথ করে উচ্চারন করেছেন যে, তিনি যা লিখছেন তা পাকিস্তানী নতুন প্রজন্মকে সত্য জানানোর আশাতেই লিখেছেন। জেনে শুনে কিংবা ইচ্ছাকৃত কোন সত্য তিনি গোপন করেননি। ওকে ফাইন। লেটস সি……… হোয়াট হি রোট…

‘WHO BROKE UP THE UNITED PAKISTAN ? ARTICLE FOR THE NEW GENERATION’ শিরোনামে তিনি লিখেছেন- ‘one day we heart that Bengali mobs have started to kill settlers in East Pakistan who were called Biharies and had open revolted.’

তার এ কথা সত্য নাকি মিথ্যা তাতে আমার কিছু যায় আসে না। কারন আমি স্বাধীনতা উত্তর প্রজন্ম। তবে পাঠকের ইচ্ছে হলে পড়ে দেখতে পারেন, বিশ্ব নন্দিত লেখক ও সম্পাদক শ্রী খুশবন্ত সিং এর ‘A train to Pakistan’ বইটি। সেখানে তিনি লিখেছেন, বিহারে মুসলিমেরা কিভাবে হাজার হাজার কাটা মুন্ডু নিয়ে আহাজারি করেছেন, নোয়াখালিতে হিন্দুরা তাদের ভাইদের লাশ নিয়ে নির্বাক থেকেছেন। জাতিগত সংঘাতে এর চেয়ে দুঃখজনক আর কি হতে পারে? কিন্তু জাতিগত বিভেদের ফলে একটি রাষ্ট্র বিভাজিত হয়ে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রে আলাদা হবার পর এমন অভিযোগের কারন কি? এদেশের সেক্যুলারেরা একে মিথ্যে বানোয়াট আর ভ্রান্তির বিলাস বলে হয়ত উল্লেখ করবেন। আমার তাতেও কিছু যায় আসে না। কিন্তু এই সরকারের আমলেই মি কাদের সিদ্দিকীর ভাই মি লতিফ সিদ্দিকী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য একদিন এক সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেছিলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে কাদের সিদ্দকীর ফাঁসি হত শুধুমাত্র বিহারী হত্যার দায়ে’। এর মানে কি? বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর আগে মি কাদের সিদ্দিকী এমন কি করেছিলেন যে জন্যে তার নির্ঘাত ফাঁসি হয়ে যেত? টাংগাইল জুট মিলের তিন লক্ষ বেল পাট লুট করেছিলেন কেন মি কাদের সিদ্দিকী? এর সাথে বিপ্লবের সম্পর্ক কি? যাই হোক, কথা বলছি বিজয় নিয়ে।

পুরনো কথায় ফিরে যাই- ‘ At the end of that article, it was said that- There is a lesion in everything. It is not possible to ignore a population and to send drones, and to deny their appeals in Supreme courts on jurisdictional grounds and then about union. Union requires care and awarding of rights. Union requires honesty.

লেখার শেষ অংশটা-ই মুলত আমাকে আকৃষ্ট করে। এখানে আমি আরেকজন খুশবন্ত সিং এর ছায়া খুঁজে পাই। আবার অন্য একটা মৃদু কন্ঠকেও ক্ষীনস্বরে কানের খুব কাছে বাজতে শুনি- যারা বলে, ব্রিটিশ পরাধীনতা থেকে বের হয়ে পাকিস্তানের হাতে পরাধীন হলাম। এখন স্বাধীন হবার মানে এই নয় তো, এক পরাধীনতা থেকে অন্য দীর্ঘমেয়াদী পরাধীনতায় নিক্ষিপ্ত হওয়া?

ফ্রম দ্যা ফ্রাই প্যান টু দ্যা ফায়ার। এতে আলাদা এমন কি লাভ হবে?

যারা শুধুই আর্তনাদ করে গেছে তাদেরকে খুব অহেতুক কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে মনে হয়নি। যদি তাই হত তবে সোহরাওয়ার্দী কিংবা ফজলুল হকে’র পরিবারের কোন না কোন বিরাট ভুমিকা নজরে আসার কথা ছিল। ভাসানী’র ভুমিকা থাকার কথা ছিল। আরও হাজারো নেতার একই কাতারে দাঁড়াবার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। বরং, ঘোরতর মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের দেখেছি রাজাসন পেতে আবার মুক্তিযোদ্ধাদের করুন পরিনতির গল্প এ দেশে খুব কম হবার কথা নয়। এ জাতী যাদের কে জাতীয় নেতা জ্ঞান করে, স্বাধীনতার যুদ্ধে তারা কোথায়? কোন কোন ক্ষেত্রে কে কোন অবদান রেখে গেছেন ?

যাই হোক, একটা শান্তি সন্ধি, সম্মানজনক সুরাহা ( যা বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন বলে প্রচলিত আছে ) কিংবা ফেডারেশন প্রস্তাবের সাথে সাথে বিদ্রোহীদের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রদর্শন বাংলাদেশের তিনদিক দিয়ে কাঁটাতারের বেড়ায় ঘিরে ফেলা, সকল নদীর পানিকে বাঁধ নির্মান করে থামিয়ে দেয়া এবং বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষকে ভারতীয় স্লেভ হবার বোঝাময় লজ্জা থেকে বাঁচাতে পারত হয়ত। যারা দুশ্চিন্তায় নির্বাক ছিলেন, তাদের ভাবনার সত্যতা হয়ত এভাবেই জাতীকে সহ্য করতে হয়েছে, এবং ভবিষ্যতেও হবে, হতেই থাকবে।

এখানে একটা ন্যায্য প্রশ্ন আসতে পারে। তা হলো- স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও এমন কথা বলছি? অথবা আমার চিন্তায় পাকিস্তানের সাথে থেকে যাওয়া উচিত ছিল কিনা? আমার অবস্থান পরিস্কার। আমি একজন স্বাধীনতাকামী মুক্তিযোদ্ধা। তা বিপক্ষ দেশ সে পাকিস্তানই হোক কিংবা দিল্লীই হোক অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হোক। বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত- এটা’ই আমার জীবনের দৃঢ় ব্রত। আমি শুধুমাত্র বিভিন্ন আঙ্গিকে এটা দেখাতে চেয়েছি যে- একই ঘটনা প্রবাহকে বহু চোখ বহুভাবে দেখে এবং এটাই স্বাভাবিক। কে কি দেখল, সুযোগ থাকলে সেটা জেনে নেওয়াই উত্তম। তাই এখানে লেখা হল, ৭১ কে পাকিস্তানী আলোচকেরা কে কোন দৃষ্টিতে দেখেছেন বা দেখেছিলেন তার একটা নমুনা প্রদর্শন মাত্র অন্য কিছু নয়।

এখন কথা হচ্ছে, স্বাধীন বাংলাদেশে জন্মেই যদি দেখি আমার মা নিয়ত এমন কারো হাতে নিগৃহীত হয়ে চলেছেন যিনি নিজেকে প্রায় ঈশ্বর ভাবেন এবং এই ভাবনা ও আচরনে আশু কোন পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, তখন আমি কি করতে পারি ? বিদ্রোহ, বিরোধিতা কিংবা আপোষ রফা ইত্যাদির কোন কিছুকে মেনে নিতেই হবে? ঐতিহাসিকগণ এ প্রশ্নে হয়ত ফারাও সম্রাট রামেসিস এবং মুসা নবীর সামান্য/অসামান্য কথোপকথনকে সামনে তুলে ধরতে পারেন।

সম্রাট রামেসিস মুসা’কে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করলেন- হে কৃতদাস, তুমি আমাদের জন্যে কি এনেছো ?

আমি ঈশ্বরের বার্তাবাহক ইউর এক্সেলেন্সি। মুসা’র ছোট্র জবাব।

তোমার ঈশ্বর তোমাকে কি বলে পাঠিয়েছেন, হে মুসা ?

ঈশ্বর-ই একমাত্র এবং সমস্ত জগতের স্রষ্টা। তিনি চান বনী ইসরাইলিদের ( ইসরাইলের সেইসব জনগন যারা ফারাও সম্রাট রামেসিসের হাতে কৃতদাস রুপে বন্দী ছিলেন ) তাদের মাতৃভূমি ইসরাইলে ফিরতে দেয়া হোক। মুসা তার বক্তব্যকে দীর্ঘ না করে ঈশ্বরের ইচ্ছার কথা এভাবেই জানিয়ে দেন সম্রাটকে।

দেখো মুসা, দাসেরা আমার। তাদের জীবন আমার, তাদের যা কিছু অর্জন তার সবই আমার। আমি জানি না যাকে তুমি ঈশ্বর বলে ভাবছো তিনি কে। তোমার অজ্ঞতাপ্রসুত কথার ভিত্তিতে আমি তাদেরকে তোমার সাথে ছেড়ে দেব তা মনে করার কোন কারন নেই, রামেসিসের স্পষ্ট উত্তর।

রাগে অন্ধ, ক্ষুব্ধ, ক্রুদ্ধ মুসা পাল্টা জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এমন কে যে তাদের জীবনে তীক্ততায় পুর্ন করে তুলছো ? মানুষ অবশ্যই ঈশ্বরের ইচ্ছেয় পরিচালিত হবে মনে রেখো, অন্য কারো ইচ্ছেয় নয়।

নিজের উপর নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলা মুসা একবার মিসরে ব্যাঙের মহামারি লাগিয়ে দেন, একবার নিজের ছড়িকে সাপ বানিয়ে সবাইকে ভয় দেখান, আরেকবার সাগরকে ছেদা করে লোক লস্কর নিয়ে পালিয়ে যান। এই সত্য ভাষনের মোর‍্যাল স্টোরি কি তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আজকের দিনে মুজিজা দেখানো কোন পয়গম্বর যে আর আসবেন না সে কথাও জানি প্রায় পনের’শ বছর যাবত।

সুতরাং, ম্যাজিকেল কিছু দেখিয়ে রেহাই পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শুন্য।

এই প্রেক্ষিতে হাতে হাত ধরে এগিয়ে যাওয়ার কোন বিকল্পই নেই। সে হাত সাদা কি কালো, হলদে কি বাদামী তাতে কি আসে যাও। ধরে নাও সে হাত বর্নহীন। তবু বন্ধুত্ব চাই। স্বাধীনতার সোনালী সুর্যকে সমুন্নত রাখার বিনিময়ে শক্ত বন্ধুত্ব চাই। চিরস্থায়ী জয় কিংবা পরাজয়, হিংসা আর বিদ্বেষ উন্নয়নের মুলমন্ত্র নয়। বুঝতে হবে।

= লেখক : ডাঃ জাকারিয়া চৌধুরী

জিখান/প্রবাসনিউজ২৪.কম

সংবাদটি পড়া হয়েছে ৯৭ বার

( বি: দ্র: প্রবাস নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত প্রবাস নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ

x
সর্বশেষ