আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৯ই ফাল্গুন ১৪২৪, ৬ই জমাদিউস-সানি ১৪৩৯

” আরাফাত রহমান কোকো’কে দিব্য চোখে দেখি নি। কখনো”

জানুয়ারি ২৪, ২০১৮

ছাত্র রাজনীতির পড়ন্তবেলায়।
আরাফাত রহমান কোকো, দেশনেত্রীর রাজনৈতিক দৃঢ়তা এবং জীবনের সবচেয়ে বড় জানাজায় অংশগ্রহন।

আরাফাত রহমান কোকো’কে দিব্য চোখে
দেখি নি। কখনো।
ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দুই ছেলে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার কারণে বড় সন্তান তারেক রহমানকে কয়েক বার দেখার এবং কিছুটা রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার দরুণ কথাও হয়েছে, বেশ কয়েক বার।
উপমহাদেশে যে কয়েকজন সৌভাগ্যবান সন্তান আছেন তাঁদের মধ্যে এই দুই সন্তানও পড়েন। তাঁদের পিতা একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন এবং মাতা ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এমন কপাল যেকোন মানুষের জন্যই বড় দুর্লভ।

এবং খুবই অবাক করার বিষয় হলো আরাফাত রহমান কোকো’র জীবনাচরণে এর কোন প্রভাব লক্ষ্য করা যায় নি। খুবই সাদা মাটা জীবন যাপন করেছেন।ছিলেন পুরোপুরি রাজনীতি বিমুখ এক জন মানুষ। অথচ কথিত ১/১১ তাঁর জীবনকেও রাজনীতির কুটকৌশলে ধ্বংস করে দিয়েছিলো।

গেল বছরের এই সময়টা তখন রাজনৈতিকভাবে পুরো উত্তাল।
দেশনেত্রী অবরুদ্ধ। টানা হরতাল অবরোধ চলছে। ঠিক এমন একটি খারাপ সময়ে হঠাৎ তাঁর মৃত্যু সংবাদ দেশের মানুষের কাছে কাম্য ছিলো না।
জাতীয়তাবাদী মানুষের মনে বড় দাগ কাটলো।
মনকে আহত করলো, বেদনায় ভারাক্রান্ত হৃদয়।

সবচেযে ভয়ংকর ছিলো অবরুদ্ধ দেশনেত্রীর এই শোক বহন করা। দীর্ঘ দিন মাতা আর পুত্রের এক সাথে দেখা নেই। আর হঠাৎ এই বিনা মেঘে বজ্রপাত।

আর কি অবাক করে দিয়ে দেশনেত্রী সেদিন পুত্র শোক হজম করে, চোখের জলে পু্ত্রের লাশ বিদায় দিয়ে, দেশ ও জাতির মুক্তির পণ থেকে সরে গেলেন না। অবরোধ চলমান রাখলেন। দেশ, জাতি আর মানুষের মহান কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে পুত্র শোককে তিনি মাটি চাপা দিলেন মনের গভীরে।সন্তান হারা মায়ের শোক দেশ প্রেমের কাছে পরাজয় মেনে নিলো।
আর এই জন্যই তিনি মানুষের সর্বশেষ আস্হার জায়গা।

মালিবাগ বাগান বাড়ি থেকে পায়ে হেটে বের হই।
মানুষের মুখে শোকের ছায়া, বেদনার ছাপ। মানুষ যাচ্ছে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দিকে।হাজার হাজার মানুষ। মিছিলের মতো, বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের মতো মানুষ যাচ্ছে। কোথা থেকে এলো এত মানুষ! এই হরতাল, অবরোধের মধ্যেই এত মানুষ!
হাঁটি আর চোখ দুটো ভিজতে থাকে আমার!
আরাফাত রহমান কোকো তো নেতা নন, দলের কোন দায়িত্বেও নেই তিনি। মানুষের এত ভক্তি তাঁর উপর কোথা থেকে এলো?

পল্টন মোড় থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মানুষ আর বেদনার ছায়া! বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে তাঁর কফিনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়ায় শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে বিদায় দেই।

জীবনের সবচেয়ে বড় জমায়েত দেখলাম।
এত বড় জানজায় এর আগে আর অংশগ্রহন করি নাই!
মনে পড়ে, ছোট বেলায আব্বার মুখে শোনা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজার কথা।
কোন রাষ্ট্রপতির জানাজায় কোন কালে এত মানুষ জমায়েত হয় নাই।
আজ আমারও একটু গর্ব বোধ হলো, তাঁরই রক্তের উত্তরাধিকারের জানাজায় জীবনের সবচেয়ে বড় জমায়েতে সামিল হতে পেরে।

পরম প্রভু, আরাফাত রহমান কোকো’কে তুমি বেহেস্ত নসীব করো।

লেখকঃ আজমল হোসেন পাইলট
সহ- সভাপতি, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটি

সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭১ বার

( বি: দ্র: প্রবাস নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত প্রবাস নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ

x
সর্বশেষ