আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৯ই ফাল্গুন ১৪২৪, ৬ই জমাদিউস-সানি ১৪৩৯

আমি যা করছি নিজে বাঁচার জন্য বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৮

শেখ হাসিনাকে খুশি করতে গিয়ে বিচারের নামে অবিচার করতে গিয়ে এখন আততায়ী আতঙ্কে গৃহবন্দী অবস্থায় দিন কাটছে বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. মো: আক্তারুজ্জামানের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের। জাল জালিয়াতির মাধ্যমে দায়ের করা বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কথিত ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মিথ্যা দুর্নীতি মামলা’র শুনানির সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে আদালতে বিচারক ড. মো. আক্তারুজ্জামানের যে ধরণের অমানবিক ও দুর্বৃত্তের মতো আচরণ করেছেন তাতে এরই মধ্যে তার সম্পর্কে দেশের জনগণের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। এটি সবার কাছেই স্পষ্ট, এ মামলা নিয়ে ‘ঠিকাদারি’ কাজের মতো খুবই তাড়াহুড়ো করছেন বিচারক ড. মো: আক্তারুজ্জামান। এ মামলা নিয়ে একদিকে শেখ হাসিনার নির্দেশনা অপরদিকে সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের খবরদারি এবং পাশাপাশি আইন সচিব দুলালের নজরদারি সব মিলিয়ে এখন মহাআতঙ্কে বিচারক আক্তারুজ্জামান। এখন কার্যত: তাকে গৃহঅন্তরালে পুলিশী প্রহরায় রাখা হয়েছে।

বিভিন্ন মিডিয়ার বিচারক ড. মো. আক্তারুজ্জামানের বাস ভবনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তখন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক করে সহপাঠী এক ঘনিষ্ট বন্ধুর সঙ্গে কথা হয় সম্প্রতি নিজের উদ্বেগে এবং জীবনহানির আশংকার কথা জানিয়েছেন আক্তারুজ্জামানের। আক্তারুজ্জামানের নিজ পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকেই নিজের চরম ক্ষতির আশংকা করছেন। আক্তারুজ্জামান বন্ধুর সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, এই মামলাটির তেমন কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। এই মামলার প্রথম বিচারক বাসুদেব রায় আইন সচিব দুলালের নির্দেশে চার্জ গঠন করেছেন যুক্তিহীন ভাবে, কিন্তু এই মামলাটি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তার পরিবারে ও তার উপর মারাত্মক প্রেসার সৃষ্টি করা হছেয়ে , ঘনিষ্ট এ বন্ধু বলেন বিচারক ড. মো. আক্তারুজ্জামান যা করছে নিজে ও পরিবার আত্মীয় স্বজন কে বাঁচাতে।

এদিকে বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গ্রামের বাড়িতে বিচারকের মা মোছা. মরিয়ম খাতুন সাংবাদিকদের বলেন আমিও এ কার্যক্রম নিয়ে উদ্বিগ্ন আমি নানাভাবে বুঝিয়েছি, আমি আমার সন্তানকে আল্লার হাতে সঁপে দিয়েছি।

বিচারকের ভাই প্রভাষক খায়রুল ইসলাম হেলাল বলেন, শেখ হাসিনা অত্যন্ত প্রতিহিংসা পরায়ণ এবং আত্মকেন্দ্রিক নিজের প্রয়োজনে আমার ভাই কে ব্যবহার করেছে শেখ হাসিনা। আমার ভাই যা করেছে সরকারের ব্যবহৃত হয়ে। বিচারকের ভাই হেলাল আরও বলেন, কানাডাতে বাড়ী কিনেছেন ভাই, প্রতিবন্ধী এক মাত্র সন্তানকে নিয়ে এ মাসেই চলে যাবেন সপিরিবারে, হেলাল আরও বলেন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারকে যেভাবে আওয়ামী লীগ ফাঁসিয়ে দিয়েছে ভাই কেউ একই ভাবে ফাঁসিয়ে দিতে পারে তাই কানাডাতে গিয়ে থাকবেন।

বিচারকের বড় ভাই ডা. এম এ হাসান (চক্ষুবিষেশজ্ঞ) ঢাকার সাভারে পরিবার নিয়ে নিজ বাসায় থাকেন তিনি বলেন, আমি আখতারুজ্জামানকে পরামর্শ দিয়ে ছিলাম সঠিক রায় দাও তোমার ব্যক্তি স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে দেশ ও জাতির কল্যানে কিছু করো, এমন কিছু করো না যা তোমার সামনে ইতিহাস অপেক্ষা করে।

বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামানের পরিবারের পরিচয়ঃ
মোট আট ভাইবোন

১ঃ বড় ভাই ডা. এম এ হাসান (চক্ষুবিষেশজ্ঞ) ঢাকার সাভারে পরিবার নিয়ে নিজ বাসায় থাকেন।

২ঃ দ্বিতীয় ভাই আনোয়ার হোসেন বাড়িতে থেকে কৃষিকাজ করেন।

৩-৪ঃ তৃতীয় ও চতুর্থ দুই বোন হামিদা বেগম ও রহিমা বেগমের বিয়ে হয়েছে এলাকাতেই।

৫ঃ আমি প্রভাষক খায়রুল ইসলাম হেলাল গাজীরহাট কারিগরি কলেজে কর্মরত

৬ঃ কুক্তার বাচ্চা বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান(জেলা ও দায়রা জজ) ঢাকা

৭ঃ জাহাঙ্গির আলম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে লাইব্রেরিয়ান পদে কর্মরত।

৮ঃ ৮ম ভাই বেলায়েত হোসেন প্রতিবন্ধী

বাবাঃ রইচ উদ্দিন স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি করতেন।

সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৮৬০৫ বার

( বি: দ্র: প্রবাস নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত প্রবাস নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ

x
সর্বশেষ